বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৭ জুন ২০২০

কীটতত্ত্ব বিভাগের সাফল্য

ক্র: নং    . প্রযুক্তি প্রযুক্তির বিবরণ অনুমোদনের
সন/গবেষণা কার্যকাল
১। 
 
পোকা প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ধানের জাত চাষ
     
বি আর১ হলুদ মাজরা পোকার আক্রমণে  মধ্যম প্রতিরোধশীল ১৯৭০
বি আর১০ হলুদ মাজরা পোকার আক্রমণে  সহনশীল ১৯৮০
বি আর১১ হলুদ মাজরা পোকার আক্রমণে  সহনশীল ১৯৮০
বি আর২২ হলুদ মাজরা পোকার আক্রমণে সহনশীল ১৯৮৮
বি অার২৫ পামরী পোকার আক্রমণে  মধ্যম প্রতিরোধশীল ১৯৯২
     
     
     
 
২। ধানের পোকা মাকড় দমনে কীটনাশক ব্যবহার 

পিটাকের মাধ্যমে প্রাপ্ত বিভিন্ন ব্রান্ডের কীটনাশক মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর কৃষক পর্যায়ে ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করা হয়। এ পর্য্ন্ত প্রায়  ৭১৮টি কীটনাশক কৃষক পর্যায়ে ব্যবহৃত হচ্ছে।

১৯৭০ থেকে আজ পর্য্ন্ত
৩। চাষাবাদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রধান প্রধান ক্ষতিকারক পোকা দমন জমির পানি বের করে দিয়ে- পাতামাছি, চুংগী পোকা, বাদামী গাছ ফড়িং ও সাদা পীঠ গাছ ফড়িং ১৯৭০-২০১৪
জমিতে পানি দিয়ে লেদা পোকা, ছাতরা পোকা, জমিতে লুকিয়ে থাকা পোকা
ডিমের গাদা ও মথ সংগ্রহ মাজরা পোকা
হাতজাল দ্বারা পামরী ও অন্যান্য পোকা
জমিতে রোপনের দুরত্ব বাড়িয়ে দিয়ে বাদামী গাছ ফড়িং ও সাদা পীঠ গাছ ফড়িং
 
আত্রুান্ত গাছ উপড়ে ফেলা ছাতরা পোকা
৪। আলোক ফাঁদের সাহায্যে ধানের ক্ষতিকারক পোকা দমন ধানের খড় ও নাড়া জমিতে পুড়িয়ে ফেলা মাজরা পোকা, লেদা পোকা ও শীষ কাটা লেদা পোকা
৫। সার প্রয়োগে ধানের থ্রিপস পোকা ব্যবস্থাপনা  থ্রিপস আক্রান্ত জমিতে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করে পোকার ক্ষতির হাত থেকে ধানের ফসল রক্ষা করা যায়। ১৯৭৩-৭৪
৬। বিভিন্ন মৌসুমে পোকার আত্রুমণে ক্ষতির পরিমান নির্নয়  ধানের প্রধান প্রধান ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণে  বোরো মৌসুমে ১৩%, আউশ মৌসুমে ২৪% এবং আমন মৌসুমে ১৮%, গড়ে ১৮% ধানের ফলন কম হয়। ১৯৭০-১৯৭৯    
৭। অ্যাজোলা ও অন্যান্য জলজ আগাছা দ্বারা বাদামী গাছ ফড়িং দমন     অ্যাজোলা এবং জলজ আগাছা (Salvania auriculata) ধানের জমিতে থাকলে বাদামী গাছ ফড়িং এর ডিম পাড়তে অসুবিধা হয়।  অন্যদিকে পরজীবি গ্রীন মিরিড বাগ এবং মাকড়সা জলজ উদ্ভিদে সহজেই বিচরণ করতে পারে এবং বাদামী গাছ ফড়িং সহজে ভক্ষন করতে পারে। ১৯৮১-১৯৮২     
৮। পোকার অর্থনৈতিক দ্বারপ্রান্ত (ETL ) বিভিন্ন ক্ষতিকর  পোকার অর্থনৈতিক দ্বারপ্রান্ত নিম্নরুপ করা হয়েছে।

১৯৮১-১৯৯১,

১৯৯৮-১৯৯৯

 

পামরী
৪টি পূর্ণবয়স্ক পোকা/গোছা অথবা ৩৫% ক্ষতিগ্রস্ত পাতা
বাদামী গাছ ফড়িং  ২-৪ টি গর্ভবতী পোকা/গোছা অথবা ধান ক্ষেতের ৫০% গোছায় ১০ টি বাচ্চা/গোছা
সবুজ পাতা ফড়িং হাত জালের প্রতি টানে একটি পোকা এবং আশেপাশে টুংরো রোগাক্রান্ত ধান গাছ থাকে।
পাতা  ভক্ষনকারী পোকা ২৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত পাতা
গান্ধী পোকা ১ টি পোকা/ ২-৩টি গোছা
মাজরা পোকা ১০-১৫ শতাংশ মরা ডিগ বা ৫ শতাংশ সাদা শীষ অথবা ৩টি স্ত্রী মথ বা ডিমের গাদা/বর্গমিটার
গলমাছি ৫% পিয়াজ পাতা বা গল
৯। ধানের ক্ষতিকর বিভিন্ন পোকার জৈবিক দমন

জমিতে ফসল থাকা অবসহায় স্ট্র-টেপি স্থাপন করে এবং ফসল কর্তনের পর জমি পতিত অবস্থায় আইলে খড়-কুটা বিছিয়ে দিয়ে পরজীবি পোকার আবাসস্থল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে পাতা মোড়ানো পোকা, লেদাপোকা,  চুঙ্গিপোকা, স্কিপার, হেয়ারী ক্যাটারপিলার, রাইস সেমিলুপার  এবং গল মাছির কীড়ার ১২-৩৮ শতাংশ বিভিন্ন প্রজাতির পরজীবি পোকা কর্তৃক আক্রান্ত হয়। ফলে ধানের জমিতে এই সমস্ত পোকার আক্রমণ সচারাচর কম পরিলক্ষিত হয়। আমন মৌসুমে ধানের ক্ষেতে ৬০-১০০% হলুদ মাজরা পোকার ডিম পরজীবি পোকা কর্তৃক আক্রান্ত হয়, যার ফলে মাজরা পোকার আক্রমণ জমিতে কম পরিলক্ষিত হয়। কীটনাশক প্রয়োগ পরিহার  করে পরজীবি পোকার বংশ বৃদ্ধি করা উৎসাহিত করা প্রয়োজন।  

১৯৭৬-১৯৮৪
১০ বাদামী গাছ ফড়িং এর অতিমাত্রায় বংশ বৃদ্ধি সহায়ক (resurgence) কীটনাশক পরিহার প্রসঙ্গে কোন কোন কীটনাশক (যেমন  Azodrin 40WSC, Diazinon 60EC, Ekalux25EC & Lebaycid 50EC) প্রয়োগে বাদামী গাছ ফড়িং এর অতিমাত্রায় বংশবৃদ্ধির (Resurgence) কারণ হয়ে দাড়ায়। ফলে বাদামী গাছ ফড়িং দমন এর জন্য উক্ত কীটনাশক গুলো ধান ক্ষেতে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।  ১৯৮৩-১৯৮৫
১১ বাদামী গাছ ফড়িং এবং সবুজ পাতা ফড়িং এর সংখ্যা নিরুপণের জন্য নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি  বাদামী গাছ ফড়িং এবং সবুজ পাতা ফড়িং এর পপুলেশন পর্যবেক্ষণ এর নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি বের করা হয়েছে। খালি চোখে ৪০-৫০টি গোছা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পোকার সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে, ফলে ৮০ ভাগ শুদ্ধ  ফলাফল পাওয়া সম্ভব।  ১৯৮৩-১৯৮৪
১২। ধানে ফুল ফোটার সময় কীটনাশক প্রয়োগ ধানে ফুল আসার সময় পোকা মাকড়ের আক্রমণ হলে সেই সময়  তরল কীটনাশক প্রয়োগ করা যাবে। এতে ধানের চিটা হওয়ার সম্ভবনা নেই। তবে  কীটনাশক বিকাল বেলায় প্রয়োগ করতে হবে। ১৯৮৪
১৩ ধানের সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা ধানের ফলন ১৭.২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায় যদি একক  পদ্ধতিতে পোকা দমন না করে সমন্বিত ভাবে (চাষাবাদ পদ্ধতি, যান্ত্রিক পদ্ধতি, কীটনাশক প্রয়োগ ইত্যাদি) পোকা দমন করা হয়। ১৯৮৪-১৯৮৫
১৪। পোকা দমনে ভেষজ নির্যাস ব্যবহার নিম, বনকলমী, বিষকাটালী, নিশিন্দা, রয়না, হলুদ করবী, গাঁদা, ধুতরা এবং পাট ইত্যাদি গাছের নির্যাস ব্যবহার করে ধানের ক্ষতিকারক পোকা ২৫-১০০%দমন করা সম্ভব এবং এতে পরিবেশের উপর কোন প্রতিত্রিুয়া হবে না। এছাড়া মেহগনি বীজের কার্ণেলের নির্যাস বা তৈল ব্যবহার করে পূর্নবয়স্ক বাদামী গাছ ফড়িং এবং পামরী পোকা যথাত্রুমে  ৮৪ এবং ৬৩ শতাংশ দমন করা সম্ভব। ১৯৮৫, ২০০৬-২০০৭
১৫। ধানের জমিতে ব্যাঙের চাষ  ধানের জমিতে বিভিন্ন ধরনের ব্যাঙের বিচরণের ফলে ক্ষতিকর পোকার সংখ্যা কম হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, জমিতে সোনা ব্যাঙ (Rana tigrina) ক্ষতিকর পোকা মাকড় শতকরা ১৬-৪১ ভাগ কমিয়ে রাখে।  ১৯৮৬-১৯৮৭
১৬। ধানের মুড়ি ফসল (Ratoon) ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পোকা দমন ধানের মুড়ি শস্য ধানের বিভিন্ন পোকা মাকড়ের আশ্রয়সহল। ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের ৯টি প্রজাতি এবং উপকারী পোকার ৫টি প্রজাতি মুড়ি শস্য থেকে পরবর্তীতে ধানের জমিতে আক্রমণ করে। এই মুড়ি শস্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পোকা দমন করা সম্ভব। ১৯৮৭
১৭। ইঁদুর দমন ব্যবস্থাপনা ধানের জমিতে ইঁদুর দমনের ক্ষেত্রে জীবন্ত ফাঁদ (Live trap), মরন ফাঁদ (Snap trap ) এর চেয়ে বেশী কার্যকরী। শস্য গুদাম এবং বসত বাড়ীতে ইঁদুর দমনের ক্ষেত্রে আঠাযুক্ত ফাঁদ বেশী কার্যকরী।  ১৯৯১
১৮। ইঁদুর ব্যবস্থাপনার জন্য টোপ নির্ধারণ  শামুকের মাংস, ধান, নারিকেলের শাঁস, কলা এবং শুটকি মাছ জীবন্ত ফাঁদে টোপ হিসাবে ব্যবহার করলে বেশী পরিমাণে ইঁদুর ধরা পড়ে। এছাড়া ধান বা চালের সাথে নারিকেল তৈল টোপ হিসাবে ব্যবহার করলে বেশী কার্যকর। ১৯৭৯-১৯৮১, ১৯৯২,
২০০২-২০০৬
১৯ পারচিং (Perching) বা ধানের জমিতে পোকা-খেকো পাখীর জন্য ডালপালা পোতা জমিতে ধান রোপনের পর গাছের ডালপালা পুঁতে দিয়ে পোকা -খেকো পাখির বসার ব্যবস্থা করলে পাখী ধানের পোকা ভক্ষন করে দমন করে। ডাল পালা ধান গাছের পাতা থেকে ১০০ সে. মি. বেশী উঁচুতে স্থাপন করতে হবে। প্রতি ১০০ বর্গমিটালর ১টি গাছের ডাল জমিতে স্থাপন করতে হবে। ১৯৭৯, ১৯৯২,
২০১২-২০১৫
২০ ধানের ক্ষতিকর ও উপকারী পোকামাকড়ের তালিকা বাংলাদেশে এ পর্য্যন্ত ২৩২ টি প্রজাতি ধানের ক্ষতিকর পোকা, ১৬৩ প্রজাতির প্রিডেটর ও ১৮৩ প্রজাতির প্যারাসিটয়েড সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০-৩৩ টি প্রজাতির পোকা বেশী ক্ষতি সাধন করে থাকে (প্রধান অনিষ্টকারী)।  ১৯৭০-২০০৩
২১। ধানের বিকল্প উদ্ভিদে পামরী পোকার বংশ বৃদ্ধি  পামরী পোকা বিভিন্ন ধরনের ঘাস যেমন, নরদুলা/নল ঘাস (Hymenachne acutigluma), শ্যামা  (Echinochloa sp. ) জংলিদল (Hygroryza aristata) প্রভৃতি আগাছার পাতার উপর আশ্রয় নেয় এবং বংশ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়। শীতকালে জমিতে ধান না থাকলে উক্ত ঘাসগুলো বংশ বৃদ্ধি করে। জমিতে ধান লাগানোর সাথে সাথে পামরী পোকা ধানের চারায় আবার ফিরে আসে।  ২০০৩-২০০৪
২২। সুষম সার প্রয়োগের মাধ্যমে পোকা দমন ব্যবস্থাপনা ধানের ক্ষেতে অধিক মাত্রায় ইউরিয়া সার ব্যবহার করলে অধিক সংখ্যক পোকা মাকড়ের আত্রুমণ পরিলক্ষিত হয়। পক্ষান্তরে সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করলে পোকার (যেমন-বাদামী গাছ ফড়িং, পাতা মোড়ানো পোকা, গলমাছি ইত্যাদি) আত্রুমণ কম দেখা যায়। ১৯৯০
২৩ ধানের জমিতে মাকড়সা বৃদ্ধিকরণ এবং সংরক্ষন বাংলাদেশে ধানের জমিতে মাকড়সার পঞ্চাশটারও বেশী প্রজাতি সনাক্ত করা হয়েছে। মাকড়সা ধানের জমির শতকরা ২০-৩০ শতাংশ গাছ ফড়িং, পাতা ফড়িং এবং পামরী পোকা প্রতিদিন ধ্বংস করে থাকে। জমিতে মাকড়সা সংরক্ষণের জন্য কীটনাশক প্রয়োগের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক দ্বারপ্রান্ত  (ETL) বিবেচনা করে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। ১৯৯৪-১৯৯৬
২৪ ধানের নাড়া ধ্বংস করে পোকার আক্রমণ কমানো। রোপা এবং বোনা আমন ধান কর্তনের পর জমিতে থাকা নাড়ায় হলুদ মাজরা, লেদা ও শীষকাটা লেদা পোকার ৫০-৮৩% কীড়া এবং পুত্তলি অবস্থান নেয় এবং  সুপ্ত অবস্থায় থাকে। এই নাড়া ধ্বংস করে পোকার আক্রমণ কমানো যায়।  ১৯৭৪
২৫। বাদামী গাছ ফড়িং প্রবণ এলাকায় ডিমনাশক হিসাবে কীটনাশক প্রয়োগ লম্বা পাখা বিশিষ্ট বাদামী গাছ ফড়িং বোরো মৌসুমের বীজতলায় প্রায় ৩০ শতাংশ চারা গাছে ডিম পাড়ে। প্রায় ৩০ শতাংশ ডিম তিন প্রকারের প্যারাসিটয়েড দ্বারা নষ্ট হয়। বিভিন্ন কীটনাশক যেমন (Baycarb 50EC, Marshal 20EC, Rhodocide 40EC এবং Zolone 35EC) দ্বারা বাদামী গাছ ফড়িং এর ডিম নষ্ট করা যায়। ১৯৮৪
২৬। ধানের প্রধান ক্ষতিকারক পোকা সমূহের পঞ্জিকা ধানের প্রধান প্রধান ক্ষতিকারক পোকাসমূহের সারা বছরের প্রার্দূভাবের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। যার দ্বারা প্রাথমিক ভাবে পোকার আক্রমণ সময় সমন্ধে ধারণা পাওয়া যায়। . ১৯৭০-১৯৯৬
২৭। উপকারী পোকা মাকড়ের জন্য কম ক্ষতিকারক কীটনাশক ব্যবহার হলুদ মাজরা পোকার ডিমের প্রাকৃতিক শএুর জন্য কম ক্ষতিকারক কীটনাশক যেমন - Zolone 35EC, Carbofurun 3G ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যদিকে Diazinon 60EC, Malathion 57EC ও  Master 10EC  খুব বেশী ক্ষতিকারক। পামরী পোকার কীড়ার প্রাকৃতিক শএু পোকার ক্ষেএে Carbofurun 5G তুলনামুলকভাবে কম ক্ষতিকর। ১৯৯৭-১৯৯৮
২৮। গান্ধি পোকা দমনে কীটনাশক প্রয়োগ প্রতি গোছায় একটি গান্ধি পোকার আক্রমণে প্রতি হেক্টেরে ২৮০ কেজি ধানের ফলন কমতে পারে। ফলে ফুল আসা অবস্থায় প্রতি ২-৩টি গোছায় একটি গান্ধি পোকা দেখা গেলে তরল কীটনাশক প্রয়োগ করলে অর্থনেতিক ভাবে লাভজনক হবে। বর্তমানে এ পোকার ETL ১ টি পোকা/২-৩টি গোছা ।  ১৯৯৮-১৯৯৯
২৯। পামরী পোকার ডিমের পরজীবি বোলতা Trichogramma zahiri  প্রতিপালন পদ্ধতি উদ্ভাবন এই পদ্ধতিতে রাইস মথের (Corcyra cephalonica) ডিম সংগ্রহ করে আঠার সাহায্যে (Acacia spray dried powder) আর্ট পেপারে (১০×১.৫ সে.মি২) লাগিয়ে Egg card  তৈরী করা হয়। আঠা শুকিয়ে গেলে টেস্টটিউবের মধ্যে Egg card রেখে তার মধ্যে ট্রাইকোগ্রামা বোলতা ছেড়ে দিয়ে ডিম পাড়ানো হয়। রাইস মথের যে সমস্ত ডিমে পরজীবি বোলতা ডিম পাড়ে সেগুলো কালো দেখায়। পরবর্তীতে আবহাওয়া ভেদে ৭-১৪ দিনের মধ্যে ডিম থেকে পরজীবি বোলতা বের হয়ে আসে। কৃত্রিম উপায়ে প্রতিপালিত পরজীবি বোলতা পোকা, পামরী পোকা আক্রান্ত ধান গাছে ছেড়ে দিয়ে দেখা গেছে শতকরা ৮৭ ভাগ পর্যন্ত পামরী পোকার ডিম নষ্ট করতে পারে। ১৯৯৯-২০১৩
৩০। বাদামি গাছফড়িং ব্যবস্থাপনায় কীটনাশক প্রয়োগে ডাবল নজল স্প্রেয়ার এর ব্যবহার সারি পদ্ধতিতে রোপণ কৃত জমিতে দুই নজল যুক্ত স্প্রেয়ার ব্যবহার করলে বাদামি ও সাদা-পিঠ গাছফড়িং দমন অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়। দুই নজল যুক্ত স্প্রেয়ারটি এক নজলের তুলনায় কৌশলগত ভাবে উন্নত, সহজে ব্যবহার যোগ্য ইহা ব্যবহার করে এক নজলের তুলনায় একই সময়ে অধিক জমিতে গাছের গোড়ায় নিরাপদে কীটনাশক ছিটানো যায়। বিদ্যমান স্প্রে-মেশিনে (Knap-sack sprayers) এক নজলের স্থলে দুই নজল বিশিষ্ট ডিভাইসটি লাগিয়ে স্প্রে করা যায়। ১৯৯৯-২০১৪
৩১। জৈব চাষাবাদ (Organic cultivation) শুধুমাত্র জৈব সার প্রয়োগের মাধ্যমে ধান চাষে পর পর তিন মৌসুমে বর্তমান প্রথাগত Synthetic fertilizer চাষের সমান ফলন দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে ফলন প্রথাগত পদ্ধতির চেয়ে দ্রুত কমতে থাকে। সুতরাং জৈব ও রাসায়নিক সার উভয়ের সংমিশ্রনে  ধান চাষ করতে হবে। তবে জৈব চাষের জমিতে বিভিন্ন পোকা-মাকড় বা জৈব বৈচিত্র্যতার আধিক্য দেখা যায়। ১৯৯৮-২০০২
৩২। উপকারী পোকা-মাকড়ের অর্থনৈতিক ক্ষতির দ্বারপ্রান্ত জমিতে শতকরা পঞ্চাশ ভাগের অধিক গোছায় একটি করে মাকড়সা থাকলে কীটনাশক ব্যবহার কর উচিত নয়। বিশেষ করে বাদামী গাছ ফড়িং আক্রমণের ক্ষেত্রে। ১৯৯৪-১৯৯৬
৩৩। অতিরিক্ত পটাশ সার ব্যবহার বাদামি গাছ ফড়িং আক্রমণ প্রবন এলাকায় অতিরিক্ত ৫ কেজি/বিঘায় ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগের সময় ব্যবহার করা যেতে পারে।  ১৯৯৮-১৯৯৯,
২০১২-২০১৩


Share with :

Facebook Facebook